কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে এবং পরে গর্ভবতী স্ত্রীকে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে জিলান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সোমা নামে এক নারী। অন্যদিকে, গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন অভিযুক্ত জিলান।
সোমার অভিযোগ, প্রায় দুই বছর প্রেমের সম্পর্কের পর জিলান তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি গর্ভবতী হলে জিলান তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করতে শুরু করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া এবং স্বামীর স্বীকৃতি চাইতে গেলে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সোমা।
অভিযোগ অনুযায়ী, জিলান হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের আতিয়ার নামে এক ব্যক্তির ছেলে। তাঁর বাড়ি হরিপুর বাজারসংলগ্ন একটি মাদ্রাসার পাশে। সোমার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে জিলানের দুলাভাই মহিদুলসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে হয় বলে দাবি সোমার।
সোমা জানান, বিয়ের পর প্রথম দিকে তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। তবে কিছুদিন পর জিলানের আচরণে পরিবর্তন আসে। একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হওয়ার কথা জানালে জিলান তাঁকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন সোমা।
তিনি আরও দাবি করেন, স্বামীর স্বীকৃতি পেতে একাধিকবার জিলানের বাড়িতে গেলেও তাঁকে গ্রহণ করা হয়নি। এ সময় জিলান ও তাঁর দুলাভাই মহিদুলের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সোমার ভাষ্য, নিজের ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও সমাধান পাননি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে জিলান বলেন, সোমা তাঁর সাথে প্রতারণা করেছেন। তাঁর দাবি, সোমার আগে বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর সন্তান রয়েছে—এ তথ্য তিনি জানতেন না। গর্ভের সন্তান তাঁর কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন জিলান। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে চান বলে জানান জিলান।
এই বিষয়ে জিলান এর দুলাভাই মহিদুলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন "আমি সোমা ও জিলহানের বিয়ের সাক্ষী ছিলাম কথাটা সত্য। কিন্তু সোমা তার আগের বিয়ে ও সন্তানের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকো লুকিয়েছে। আমরা এই সব জানার পরও তাকে আর নিতে চাই না।"
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।
সোমার দাবি, তিনি স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি এবং অনাগত সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করতে চান। অন্যদিকে, জিলান পিতৃত্ব যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক: মো:এমদাদুল হক
অফিস: মামনি সুপার মার্কেট,৩ য় তলা এন.এস.রোড কুষ্টিয়া
মোবাইল: ০১৭১১-৭৪৪০১৪
ই পেপার কপি