স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পরিদর্শনের পরও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে অনিয়ম, রোগী হয়রানি এবং দালালচক্রের তৎপরতার অভিযোগ থামেনি। জেলার সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, কাঙ্ক্ষিত সেবা না দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের টেষ্ট কারার জন্য বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাঠেনো অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ইকবাল হাসানের কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদেরও সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা যায়। এ ছাড়া আরএমও-এর রুমের সামনে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদেরও ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তাবাচ্ছুম নামরে এক রোগীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ডাক্তার দেখানোর জন্য প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এই কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছি। এর মধ্যে অনেক মানুষকে হাতে ওষুধ কোম্পানির বিভিন্ন প্যাকেট নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করতে ও বের হতে দেখেছি। ডাক্তারের রোগী দেখার সময় কোথায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছুক্ষণ পরপর কয়েকজন এসে বলছেন, আমার সঙ্গে চলুন, আমাদের ক্লিনিকে বড় ডাক্তার আছেন। আর যদি এই ডাক্তারকে দেখাতে চান, তাহলে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে নিয়ে যাব। সেখানে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও করে দেব।
এছাড়া ডা. মো. ইকবাল হাসানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, তিনি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ কোম্পানির ওষুধ বেশি প্রেসক্রাইব করেন।
শফিকুল ইসলাম নামের এক রোগীর স্বাজন বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী ও স্বজনদের সাথে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন পরিক্ষা করারো জন্য দি কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম উল্লেখ করে দেওয়া হয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কুষ্টিয়ার প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হাসপাতালটি পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। তবে পরিদর্শনের পরও অনিয়মের অভিযোগ অব্যাহত থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ইকবাল হাসানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

