জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এই দেশ শুধু আমাদের নয়—এ দেশ সবার। আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না।” তিনি জানান, দলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নানা নির্যাতন ও দমন–পীড়ন চালানো হলেও জামায়াতে ইসলামী প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
সোমবার কুষ্টিয়া আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে, বারবার কারাবন্দি করা হয়েছে, দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি দলের নিবন্ধন বাতিল করে একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এসবের পরও গত ৫ আগস্ট রাতেই জামায়াত স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে—কাউকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হবে না এবং প্রতিশোধের রাজনীতি করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ পর্যন্ত অন্যায়ভাবে একজন মানুষকেও মামলার আসামি করিনি।”
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের দলীয় প্রার্থী আব্দুল গফুর, সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী আমির হামজা, কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী আফজাল হোসাইন এবং কুষ্টিয়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির এনামুল হক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি আধিপত্যের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন বলেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের সাহসী তরুণরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। তিনি সেই আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
কুষ্টিয়ার সমস্যা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, পদ্মা ও গড়াই নদী ঘিরে এ অঞ্চল একদিকে নদীমাতৃক হলেও অন্যদিকে ভয়াবহ সংকটে রয়েছে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানিতে সবকিছু তছনছ হয়, আবার বছরের বড় সময় নদীতে পানি থাকে না। দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে বহু মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নদী খননের নামে প্রতিবছর বাজেট বরাদ্দ হলেও বাস্তবে নদী থেকে বালি ওঠে না—টাকাগুলো লুট হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আগস্টের পর কিছু জায়গায় চাঁদাবাজির প্রবণতা দেখা গেছে। এ বিষয়ে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “যদি অভাবের কারণে কেউ এসব কাজে জড়িয়ে পড়ে থাকেন, তবে আজই তা ছেড়ে দিন। আল্লাহ যে রিজিক আমাদের দিয়েছেন, তা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আমরা প্রস্তুত।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে নারী-পুরুষ সবার হাতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান থাকবে। বিশেষ করে যুব সমাজের শক্তি ও মেধা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

