কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের ২ নং পুরাতন কুষ্টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসী দাবি করেছেন, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সভাপতি করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা হবে। সভাপতি হতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা এবং বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য হওয়ার বিষয়সহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি শামসুল রহমান নামে একজন ব্যক্তি তার সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করার বিষয়ে যোগাযোগ করেন। তাকে জানানো হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্য বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত হলে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
এসময় প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শামসুল রহমান আমাকে বলেন, টাকা পয়সার ব্যপার থাকলে আমাকে বলেন। আমি তাকে জানিয়ে দিয়েছে সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে টাকা পয়সা লাগে না। আপনার বাচ্চা নিয়মিত ক্লাস করুক তাকে ভর্তি করা হবে। শামসুল রহমানের সন্তান স্কুলে আসেন না। অথচ তিনি আমাকে ভর্তি নিতে বলছে। আমাকে বিভিন্ন ব্যক্তি ফোন দিচ্ছে ভর্তির জন্য।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুল রহমান শামসুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যারা এসব তথ্য দিয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার (এইউইও) জহুরুল হক জানান, স্কুলের বাচ্চাদের ভোটার লিস্ট অনুমোদন হয়ে গেছে। এর পরে নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি করে ভোটার হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আর সেই অভিভাবকদের কমিটিতে আসারও কোন সুযোগ নেই। বছরের মাঝামাঝি এসে ভর্তি হতে হলে পূর্বের স্কুলের ছাড়পত্র লাগবে। সরকারি নিয়মের বাইরে কোন কিছু হবে না। সরকারি নিয়ম মেনেই কমিটি গঠন করা হবে।
এলাকাবাসি অভিযোগে করে বলেন, পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা শামসুল রহমান শামসুল বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে আসার বছরের মাঝামাঝি সময় বিদ্যালয়ে সন্তান ভর্তি করানোর পায়তারা করছে। শামসুল হরিপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিল। তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের সময় নানা দূর্নীতির অভিযোগ রছেছে। এলাকাবাসী আরও বলেন শামসুলের নামে নারী কেলেংকারির সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজও হয়েছে।

